শনিবার, ১১ Jul ২০২০, ০১:৪০ অপরাহ্ন


Bd-Times

অন্যান্য পর্যটন

  Print  

ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর, ঐতিহ্যের দিল্লী এবং দাদাবাবুদের কলকাতার পথে পথে (পর্ব:৪)

   


রেজাউল হক রিয়াজ | প্রকাশিত: ০৫:২৩ পিএম, সোমবার, ১৯ - মার্চ - ২০১৮



পর্ব:৪


একটানা চলেছে ট্রেন। মাঝে দুই তিনটা স্টেশনে কয়েক মিনিটের যাত্রী উঠা নামার বিরতিহীনভাবে চলে সকাল ৯.৩০ টায় জুম্মু। জুম্মু কাশ্মীরে আলাদা রেজিষ্ট্রার্ড সীম ব্যবহার করা হয় বিধায় কলকাতা থেকে নেয়া সীম গুলো এখানে অকার্যকর হয়ে পড়লো। জুম্মু সম্পর্কে কিছুই জানা শোনা নাই, আমাদের রিসিভ করার জন্য ড্রাইভারের নাম্বারই একমাত্র অবলম্বন। জুম্মু ষ্টেশনের বাহিরে আইএসডি ফোন বুথ থেকে কল করে ড্রাইভারের সাথে যোগাযোগ করে শপ ৭৩ তে উপস্থিত হলাম। ক্ষনিক বাদেই হাজির হলো কাশ্মীরে সার্বক্ষনিক সফরসঙ্গী আমাদের গাইড ও ড্রাইভার জাবেদ।


প্রচন্ড গরম তখন জুম্মুতে। এরমাঝে ঘটলো অনাকাংখিত বিপত্তি। মুজাহিদ ভাই আর নোমান মোবাইলের সীম কিনতে বেশ আগেও বের হয়েছে, আমরা দীর্ঘক্ষন গাড়ীতে প্রচন্ড গরমে সবাই যখন অস্থির তখন তাদের কোন হদিস নাই। আশেপাশের মার্কেট, দোকান, রাস্তা সব খোঁজা শেষ, কোথাও তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় বয়ে গেছে ইতিমধ্যে। মনে শংকা তৈরী হলো, অচেনা জায়গায় কোন বিপদে পড়লো কিনা? শেষবারের মতো খুঁজে নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তা চাইবো বলে মনস্থির করলাম। ঠিক তখনই তাদের সাক্ষাৎ মিললো। দোকানদার ২/৩ কি.মি দূরে ফোনের অফিসে নিয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু সীম দিতে পারেনি। প্রচন্ড রাগ তৈরী হয়েছিলো তাদের উপরে। অচেনা জায়গায় এভাবে হাওয়া হলে রাগ, শংকা, ভয় যা তৈরী হওয়ার তাই হয়েছে। তবুও কোন সমস্যা ছাড়াই তারা ফিরে এসেছে এটাই সৌভাগ্য।


জুম্মু থেকে শ্রীনগরর দূরত্ব ৩০০ কি.মি.। আঁকাবাঁকা উচু নিচু পাহাড়ী পথ হলেও অধিকাংশ স্থানে পিচ ঢালাই মসৃন রাস্তা। প্রচুর যানবাহন চলাচল করে এ পথে। পুরো পথে পাহাড়ের সাড়ি। এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়, পাহাড় কেটে তৈরী করা হয়েছে। ২৯৮ কি.মি রাস্তার ১০০ কি.মি রাস্তা এখনো ভালো হয়নি। পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরীর কাজ চলছে। ১/২ বছরের মাঝে জুম্মু থেকে কাশ্মীরের সড়ক পথ আরো সুন্দর হবে নিঃসন্দেহে। এ পথ বৎসরের ৬ মাস প্রায়ই বন্ধ থাকে। শীতে তুষারপাত আর বর্ষায় পাহাড়ী ঢলে পাহাড় ধসের কারণে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায়ই সড়ক পথ বন্ধ থাকে। এ সময় সড়ক পথে কাশ্মীর যাওয়া প্রায় অসম্ভব। কাশ্মীরের প্রশাসনিক রাজধানী শ্রীনগর থেকে এ সময় জুম্মুতে স্থানান্তর করা হয়।


একপাশে পাহারের সাড়ি অন্যপাশে গভীর খাদের মাঝখানে পাহাড়ী সরু পথ। দুই পাহাড়ের মাঝখানে বয়ে চলা পাহাড়ী নদী। কয়েক হাজার ফুট উপরে পাহাড়ের গায়ে গাড়ী চলাচলের রাস্তা। জুম্মু থেকে কাশ্মীরের রাস্তায় ছোট বড় ৬ টি টানেল অতিক্রম করতে হয়। কিছুদিন পূর্বে চেনানি ও নাশরি শহরের সীমান্তে এ পথের সবচেয়ে বড় টানেল উদ্ভোধন করেন প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদী, যা এশিয়ার সর্ববৃহৎ ও বিশ্বের ষষ্ঠতম দীর্ঘ মহাসড়ক টানেল। অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন চেনি-নাশরি বা পেটনিটোপ টানেলের আসল নামকে ছাপিয়ে সাড়ে নয় কি.মি এর এ টানেলের নাম স্থানীয়দের মুখে মোদি টানেল ৩০ কি.মি. রাস্তা কমিয়ে দিয়েছে। বহু বছর পুরোনো আরেকটি টানেল যা জুম্মু ও কাশ্মীরকে সংযুক্ত করেছে। জওহর টানেলের দীর্ঘ আড়াই কি.মি, জুম্মু প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করলে কাশ্মীর প্রান্তে গিয়ে বের হতে হয়। পাহাড়ের বুক ভেদ করে এসব টানেল পাহাড়ের অন্য প্রান্তে নিয়ে যায় এ পথের যাত্রীদের। এসব টানেল কমিয়ে দিয়েছে রাস্তার দূরত্ব এবং ঝুকি। আসা যাওয়ার পথে ভাবছিলাম বর্তমানে সুন্দর রাস্তা তৈরী হলেও যখন মোঘল সম্রাটটগনের সময় এ রাস্তা ছিলোনা অথচ তারা কিভাবে এ রাস্তা আবিষ্কার করেছেন এবং দিল্লী থেকে হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে কাশ্মীরে অবকাশ পালনে যেতেন।


রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে তাই পাথর আর ধুলাবালুতে কালো পোষাক ইতিমধ্যে সাদা রং ধারণ করেছে।  কাশ্মীরে হিন্দুদের অমরনাথ যাত্রার কারণে রাস্তায় প্রচুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গাড়ীর চাপও বেশ। কাশ্মীর সীমান্তে পৌছতে দুপুর গড়িয়ে সূর্র্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে এর মাঝে সরু রাস্তায় কয়েক কি.মি ট্রাকের লম্বা জ্যাম। পাহাড়ী পথ পেড়িয়ে তুলনামূলক সমতলে পৌছতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলো। বাংলাদেশের সময় থেকে ১ ঘন্টা পরে কাশ্মীরে সূর্য অস্ত যায়। ঘড়ির কাটা ৭.৩০ বাজে অথচ তখনো সূর্য আলো ছড়াচ্ছে দেখে একটু সন্দেহে পড়ে গেলাম। ঘড়ি কি নষ্ট হয়ে গেলো নাকি? না, আসলে সন্ধ্যা হলো ঠিক ৮.০০ টায় তখন বাংলাদেশে সূর্যাস্তের পরে আরো এক ঘন্টা অতিক্রম হয়ে গেছে।

দীর্ঘ ১০ ঘন্টা জার্নি শেষ করেও রাত ৯.৩০ টায় দীর্ঘ পৌছলাম হোটেল ক্রিষ্টালে। সেবার দিক থেকে যথেষ্ট মানসম্মত হোটেল। দুই দিনের লম্বা সফর আর ধূলাবালিতে থাকার পর গোসল না করে উপায় নেই। ঢাকা, দিল্লী বা জুম্মুর ন্যায় প্রচন্ড গরম না থাকলেও কাশ্মীরে যতটা ঠান্ডা থাকবে ধারনা করেছিলাম ঠান্ডার তীব্রতা ততটা নেই। গোসল সেড়ে অল্প সময়েই খাবার টেবিলে হাজির সবাই। সাদা ভাত, সবজি আর মুরগী সাথে রুটিও রয়েছে। কাশ্মীরের প্রধান খাদ্য ভাত তাই ভাতের দেশের মানুষ ভাতের দেশে গিয়ে ভাত খেতে পেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুললো। আর দেরি না করে সবাই শুয়ে পড়লো পরের দিনের প্রস্তুতি নিয়ে।



কাশ্মীরের সকালে হালকা শীতের আমেজ। শান্ত পরিবেশ চারিদিকে। রাস্তায় মানুষজন নেই বললেই চলে। বরফের রাজ্য সোনমার্গে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নাস্তা সেড়ে হোটেলের আঙ্গিনায় ছবি তুলছিলাম আর ড্রাইভার জাবেদের অপেক্ষা করছিলাম। বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষার পর আমাদের যাত্রা শুরু হলো সোনমার্গের উদ্দেশ্যে। হরতাল চলছে কাশ্মীরে। কাশ্মীর প্রতিদিনই উত্তপ্ত কিন্তু হরতাল হওয়ায় একটু বেশী। কয়েক গজ পর পর রাস্তায়, বাড়ীর ছাদে, বাগানে সব জায়গা ইন্ডিয়ান আর্মি আর নিরাপত্তা রক্ষী দ্বারা পুরো কাশ্মীর নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো যদিও এরই মাঝে চলে কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম। সুন্দর শান্ত পরিবেশে আমরা শহর ছেড়ে এগিয়ে চলছি সোনমার্গের উদ্দেশে। শহর ছেড়ে যতই এগুচ্ছি ততই উচু নিচু আঁকা বাঁকা পথ। পাহাড়ের গা ভেদ করে বেড়িয়ে আসছে সুন্দর ঝর্ণা। পাহাড়ের গা ঘেসে এগিয়ে চলছে মসৃন পথ আর পাশেই পাহাড়ের কোল বেয়ে বয়ে চলছে খর¯্রােতা নদী। অনিদ্য সুন্দর পরিবেশের স্বপ্ন দেখেছি, গল্প শুনেছি, নিজ চোখে দেখে অবাক হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকি, সৃষ্টিকর্তা কত সুন্দর রূপে তৈরী করে করেছেন তার এ ভূমি।

পথে হালকা ব্রেক দিয়ে আবার ছুটে চলছি গন্তব্যে। যতই সামনে এগুচ্ছি ততই বরবের দেখা মিলছে। পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা জমাট বদ্ধ বরফ। প্রচন্ড রোদ তবুও গলছেনা এসব বরফ। অবশেষে পৌছে গেলাম সোনমার্গ। কিন্তু বরফের রাজ্যে পৌছতে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এ এলাকার জন্য নির্দিষ্ট গাড়ী বা ঘোড়া ছাড়া বরফ দেখতে যাওয়া সম্ভব নয়। কলকাতার জাবেদ ওখানে বেশ পরিচিত বিধায় সুবিধা হলো। বরফের জন্য মোটা ওভার কোট আর গাম বুট নিয়ে পাহাড় আরোহনের জন্য সবাই প্রস্তুত। 


যাত্রা শুরু হলো। পাহাড়ের গা বেয়ে চলছি পাহাড়ের চূঁড়ার দিকে। মনে শংকা বোধ করলেও কেউ প্রকাশ করছে না। অমসৃন রাস্তা যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা নিয়েই চলতে হয় এ পথে। গাড়ীতে থাকায় রাস্তার ভয়াবহতা খুব একটা অনুভূত হয়নি। পাহাড় বেয়ে বেয়ে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে। বেশ দূরে অনেক উঁচু অন্য পাহাড়। পাহাড়ের সাড়ির মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে খর¯্রােতা পাহাড়ী নদী। সড়ক পথে এ পথে কারগিল হয়ে লেহ লাদাখ যাওয়া যায়। বিপদ সংকুল সে যাত্রা। আমাদের গাড়ী অতিক্রম করে দু:সাহসিক আর এডভেঞ্চার প্রিয়রা মটর সাইকেল নিয়ে চলে যাচ্ছেন লাদাখের গন্তব্যে কেউ আবার ফিরে আসছেন এ পথে।


ক্ষনিক যাত্রা বিরতি। ড্রাইভার জানালেন, আমরা অবস্থান করছি ১৮০০ ফুট উচুতে। প্রাকৃতিক কর্ম সেড়ে নেয়ার পাশাপাশি স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা হয়েছে। ঠিক নিচে রয়েছে হিন্দুদের অমরনাথ যাত্রার বেজ ক্যাম্প। যারা অমরনাথ যাত্রায় যান তারা এখানে অবস্থান করে, পুজার জন্য এখান অবস্থান করে আবার অমরনাথ মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পুনরায় শুরু হলো আমাদের পথচলা, রাস্তা আরো ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। পিছনে তাকিয়ে গা শিউরে উঠলো, কয়েক হাজার ফুট নিচে তুলনামূলক সমতল ভূমি থেকে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে পাহাড়ের অনেক উপরে অবস্থান করছি। চূড়ায় যেতে আরো উপরে উঠতে হবে। বৃষ্টিতে ভূমি ধ্বস ও তুষারপাতের কারণে এই বিপদ সংকুল সড়ক পথ বৎসরের নভেম্বর থেকে এপ্রিল বা মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৬ মাস বন্ধ থাকে। সামনে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ের গায়ে বরফের দেখা মিলছে বেশ। রাস্তায় ধারে পাহাড়ের গা বরফে আচ্ছাদিত। পাহাড়ের দেয়াল গলে পড়া পানি পিচ্চিল পথ তৈরী করে আরো বিপদজনক করেছে এ পথ। বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে পৌছলাম সোনামার্গের জিরো পয়েন্ট বরফের রাজ্যে। উচু পাহাড়, বিশাল উপত্যকা পুরোটা বরফে আচ্ছাদিত। প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাসে ভারী জ্যাকেট ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব। বরফে মোড়ানো পাহাড়ের চূড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। প্রথমে উচু পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকিয়ে সাহসে কুলালো না। অসংখ্য মানুষকে পাড়াড়ের চূড়ায় উঠতে দেখে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। স্থানীয়রা পাহাড়ে চড়িয়ে দেয়ার জন্য ফুসলাতে লাগলেও পয়সা খরচের চিন্তা করে তাদের ডাকে সাড়া দিলাম না কেউ। সাহস করে উঠতে হবে শুধু সাবধান থাকতে হবে বিশেষ করে নামার সময়। প্রথমে ঠান্ডা বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা হলেও আস্তে আস্তে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলাম। ফাইজুর, মুজাহিদ আর আতিক ভাই বেশ সাহসের সাথে পাহাড়ের চূঁড়ায় উঠতে লাগলো। তারা এবং আরো অসংখ্য মানুষের দেখাদেখি সাহস নিয়ে উঠে গেলাম চূঁড়ার কাছাকাছি। একেবারে উপরে ঝর্ণার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নিচের দিকে তাকাতেই কলিজা পানিশূন্য হওয়ার অবস্থা। কিন্তু বরফের পাহাড়ের চূঁড়ায় পৌছে সত্যি এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছিলো। দূর পাহাড়, নিচের উপত্যকা একনজরে দেখে মনে প্রশান্তির শিহরণ খেলা করছিলো। কী অপরূপ সৃষ্টিকর্তার অনিন্দ্য সুন্দর সৃষ্টি রহস্য।


এবার নামার পালা। নিচে তাকাতেই ভয়ে কলিজা শুকিয়ে যায়। এর মাঝে বরফে চলার বাহন গুলিতে চড়ে খুব দ্রæত নিচে নেমে যাচ্ছে কেউ কেউ। অন্যদের দেখাদেখি বুদ্ধি বের করে আস্তে আস্তে নেমে আসলাম বরফের উপত্যকায়। দুপুরের লাঞ্চ নুডুলস দিয়েই সেড়ে নিয়ে ফেলার পালা। কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে গাড়ী ঢাল বেয়ে পাহাড়ের পাদদেশে নামছে। পাহাড়ী সরু রাস্তা দিয়ে আর্মির বিশাল কনভয় যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলো। সোনমার্গ পয়েন্টে পৌছতে ঘড়ির কাটা তখন ৩ টার সংকেত দিচ্ছে। অনিন্দ্য সুন্দর এ ভূমিতে মন ফিরে যাচ্ছিল বারবার এ সৌন্দর্য্যের কোন বর্ননা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব। 



হযরত বাল মসজিদ দর্শন এবং এক ওয়াক্ত নামায় আদায়ের জন্য মসজিদে পৌছতে বিকেল হয়ে গেলো। রাসূল (স:) এর চুল এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। অত্যন্ত সুন্দর মসজিদ কমপ্লেক্স ও এর আশেপাশের আঙ্গিনার পরিবেশ। মসজিদের সামনে বিশাল মাঠ, পেছনে শ্রীনগরের সৌন্দর্যের রানী ডাল লেকের লেজের দিকের অংশ। মসজিদের মাঠে এবং লেকের পাড়ে কাশ্মীরী ছেলেমেয়েরা খেলাধূলা করছে আর মায়েরা গোল হয়ে গল্প করছে।


মাগরিব নামাজ শেষে বেড়িয়ে এসে কিছু কেনাকাটার জন্য মার্কেটের পথ ধরলাম। বেশ ফাঁকা শ্রীনগর শহর, সন্ধ্যার পরে অকারণে ঘরের বাহিরে লোকজন খুব কম বের হয়। চলাচলের সীমাবদ্ধ অনুমতি আর উটকো ঝামেলা থেকে এড়িয়ে চলে সাধারণ মানুষ। স্বল্প সময়ে দুই মার্কেট ঘুরে কিছু কেনাকাটা করে ফিরে এলাম হোটেলে। সারাদিন নেটওয়ার্কের বাহিরে থাকায় হোটেলে পৌছেই সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো প্রিয়জনের সাথে একটু সময় কথা বলার জন্য। সীম কার্ড অচল, হোটেলের ওয়াইফাই একমাত্র ভরসা। ইন্ডিয়া এসে প্রথম গরুর স্বাদ পাওয়া গেলো সে রাতেই। সারাদিন ভাত খাওয়ার সুযোগ হয়নি বলে সুস্বাদু সবজি আর গরুর গোসতের স্বাদ পেয়ে সবাই উদর পুর্তি করতে ব্যস্ত হয়ে গেলো। 


চলবে....


BD-Times/ এম এইচ






রিলেটেড নিউজ:


গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:




 শীর্ষ খবর

সবুজ বাংলাদেশ 'চন্দ্রগঞ্জ থানা শাখা'র পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোধন- বিডি টাইমস

লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলা একাদশ ক্লাবের ১০১ বিশিষ্ট নতুন কমিটি অনুমোদন।

শিশু রামিমের জন্য মানবিক আবেদন-বিডি টাইমস

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী ৩০হাজার বৃক্ষরোপণ করবে সবুজ বাংলাদেশ

আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছে ৫০ লাখ পরিবার

অনলাইন আদালতে জামিন পেলেন ১৪৪ আসামি

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ী ফিরলেন এক করোনা জয়ী পুলিশ সদস্য

দেশে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আরো ৯৬৯ জন শনাক্ত

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা জয়ীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

অনলাইনে আদালত, প্রথম জামিন আবেদন সংগ্রাম সম্পাদকের আবুল আসাদ

করোনা উপসর্গ নিয়ে ওসমানী মেডিকেলের সাবেক পরিচালকের মৃত্যু

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১২ মামলার আসামি নিহত

নজরদারি বাড়িয়ে লকডাউন শিথিল করুন : ডব্লিউএইচও

১০ দিন হবে ঈদের ছুটি!

ফের শীর্ষ দূষিত বাতাসের শহর ঢাকা




বার্তা প্রধান: রেহমান কামাল
৩০১,ড.নবাব আলী টাওয়ার (৩য় তলা)
পুরানা পল্টন,ঢাকা-১০০০ ,বাংলাদেশ ।


ফোন :  02-7176978  মোবা:  01732-706938
Email :  editor.bdtimes@gmail.com


All Rights Reserved © bd-times.com

This site is developed by -khalid (emdad01557html5css3@gmail.com).

ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর, ঐতিহ্যের দিল্লী এবং দাদাবাবুদের কলকাতার পথে পথে (পর্ব:৪)