শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন


Bd-Times

অন্যান্য পর্যটন

  Print  

ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর, ঐতিহ্যের দিল্লী এবং দাদাবাবুদের কলকাতার পথে পথে (পর্ব:৫)

   


রেজাউল হক রিয়াজ | প্রকাশিত: ০১:১২ এএম , বুধবার, ২১ - মার্চ - ২০১৮



পর্ব:৫


সেদিনের গন্তব্য পহেলগাম। নাস্তা সেরে প্রস্তুত হতেই যথাসময় চালক জাবেদ গাড়ী নিয়ে হাজির। পরিচ্ছন্ন শ্রীনগর থেকে ঝিলেম নদীর তীর ঘেষে ছুটছি পহেলগামের পথে। শ্রীনগর থেকে প্রায় ১০০ কি.মি.। অর্ধেক রাস্তা জুম্মুর রাস্তায় বাকী পথ আপেল বাগানের মাঝ দিয়ে পাহাড়ের কোল ঘেষে এঁেকঁেবকে চলে গেলে পহেলাগাম হয়ে আরো সামনে। অভিজ্ঞতা বলছে, আমাদের কাশ্মীর ভ্রমনটা পহেলগাম থেকে শুরু করলে ভালো হতো বলে মনে হচ্ছে। তাহলে এখানে রাত্রী যাপনের তৃপ্তির পাশাপাশি ঘুরে দেখার জন্য হাতে বেশ সময় পাওয়া যেতো। পহেলগাম এককথায় অনন্য, সৃষ্টিকর্তা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যতে ভরে দিয়েছেন এ জনপদ।


শ্রীনগর থেকে জুম্মুর রাস্তায় দেখা যায় বিশাল জাফরানের মাঠ। কাশ্মীরের এ জায়গায় জাফরান উৎপাদন হয়। নভেম্বরে বিস্তৃর্ণ মাঠ জুড়ে জাফরান তার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়। জাফরান থেকে বিভিন্ন প্রকারের আতর, ঔষধ, খাদ্য পন্য তৈরী হয়, বেশ দামী এ জাফরান পন্য। তুলনামূলক কম মূল্যে রাস্তায় হোলসেল দোকান থেকে জাফরান পন্য কিনে নিলে ভালো জিনিস পাওয়া যাবে। গাড়ী থামিয়ে একটি দোকানে ঢুকে কিনে নিলাম জাফরানসহ কাশ্মীরী বাদাম, আতর, ঔষধ ইত্যাদি। ক্রিকেট ব্যাট তৈরীর অসংখ্য কারখানও এই পথে। ইন্ডিয়া ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখান থেকে ক্রিকেটের ব্যাট সরবারহ করা হয়। বেশ কয়েকটি কারখান ও বিক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখে ব্যাট তৈরীর জন্য কাঠ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে দোকানে বিক্রয় করা পর্যন্ত দেখার সুযোগ হলো। ব্যাটের মূল্য নিতান্ত কম। নোমান তার ছোট ভাইর জন্য একটি ব্যাট কিনে নিলো।


মূল রাস্তা ছেড়ে পহেলগাম রাস্তা ধরতেই বিমোহিত হওয়ার মাত্র বৃদ্ধি পেতেই থাকলো। আপেল বাগানের মাঝ দিয়ে ছুটে চলছি। গাছ গুলো লম্বায় খুব বড় নয় বলে হাতের নাগালেই পাওয়া যায় আপেল। আপেলের সিজন না হওয়ায় সবুজ আপেল গাছেই ছোট ছোট রয়েছে। আগষ্ট মাস নাগাদ আপেল গাছ থেকে পেরে রপ্তানীর উপযুক্ত সময় হবে। তখন এ পথের দুই ধারে পাকা আপেলের সমাহার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখান থেকেই আপেল বাজারজাত করার জন্য প্যাকিং শেষে রপ্তানী হয়। আপেল বাগানের মাঝে পথে পথে রয়েছে অসংখ্য হোটেল ও রিসোর্ট। একটি দিন কাটিয়ে যেতে পারলে নিঃসন্দেহে সেরা অভিজ্ঞতা হতো। কিন্তু খুব বেশী সময় হাতে নিয়ে আসা হয়নি বলে ছুটে চলছি অবিরাম।


আপেল বাগান থেকে বেরিয়ে আবার পাহাড়ের কোলে চলে আসলাম। রাস্তার দুই ধারে উচু উচু পাহাড়ের সাড়ি। মাঝখানে খরস্রোতা  পাহাড়ী নদী পাহাড়ী গ্রামীন পরিবেশকে করেছে নিদারুন সুন্দর। চর্ম চক্ষু এ সৌন্দর্য্যে বিমোহিত। হাতের ক্যামেরায় স্মৃতি ধারণ করে মন ভরছে না। পাহাড়ের গায়ে তৈরী করা রাস্তা ধরে ছুটতে ছুটতে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলাম। এ জন্যই কাশ্মীরকে ভূ-স্বর্গ নাম দিয়েছিলেন মোঘল সম্রাটগন

প্রকৃতির মাঝ থেকে বাস্তবে ফিরে আসতে হলো পহেলগাম ভ্যালীতে প্রবেশ মুখেই কড়া চেকিং এর কারণে। হাতের ব্যাগের সব চেকিং এর সুযোগ করে দিলাম কিন্তু বাকীরা প্রায় বিনা চেকেই পার হলো, বাংলাদেশী মুসলিম বলায় বেশ সম্মান ও কদর পেলাম। বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের প্রতি অন্য দেশের মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা নিঃসন্দেহে ভালো লাগার মতো অনুভূতি। পহেলগাম ভ্যালীতে পৌছে দূরে হেলিকপ্টারের উঠানামা দেখে বুঝলাম গতকাল সোনমার্গ যাওয়ার পথে অমরনাথ যাত্রার বেজ ক্যাম্পে দেখেছিলাম তা খুব দূরে নয় যদিও ওখানে পৌছতে ডিঙ্গাতে হবে বড় বড় পাহাড়।


পহেলগাম কি করবো, কোথায় যাবো কিছুই জানি না। গাড়ী থেকে নামতেই ঘোড়ার মালিকরা এসে জেকে ধরলো ঘোড়ায় চড়িয়ে বিভিন্ন সাইট সীন করার জন্য। ঘোড়ায় চড়া নিয়ে সিদ্ধান্ত হীনতাই ভূগছি। ঘোড়ায় চড়ায় অভ্যস্ত নই তাও আবার ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়ে উঠতে হবে। অজানা শংকায় সাহসে কুলাচ্ছে না। কিন্তু এতো দূরে এসে কিছু একটা তো করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম ঘোড়ায় করে পাহাড়েই উঠার। দরদাম করার সময় ঘোড়া প্রতি ৭০০ টাকা অনেক বেশী মনে হচ্ছে মনে হলেও ফিরে আসার সময় মনে হলো এ টাকা খুব বেশী নয়।


ছয়টি ঘোড়ার বহর হাকিয়ে নিয়ে চলছে ৩ জন সহিস। অনভ্যস্ত ঘোরসাওয়াড়ী নিয়ে বিপদ শংকুল পাহাড়ী পথে উঠছে ঘোড়া। ভয়ানক রাস্তায় শুরুতে ভীতি কাজ করলে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ভীতিটা কমে আসলো।  শরীফ ভাই অগ্রগামী আর সবার পশ্চাতে আমি। পাথর, কার্দমাক্ত, পিচ্ছিল পথ যেকোন বিপদ নিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট। কোন কারণে ঘোড়ার পা পিছলে পড়লে জীবিত থাকার সম্ভবনা নেই বললেই চলে। মহান মনিব ঘোড়াকে যুদ্ধ এবং কঠিন পথ পাড়ি দেয়ার জন্য সৃষ্টি করেছেন তা সুষ্পষ্ট হতেই মনিবের প্রতি সেজদায় মাথা অবনত হয়ে আসলো। ঘোড়ার সহিস জামাল কাকা, মজিদ চাচা সাহস দিচ্ছিলেন আর প্রভুর প্রতি ভরসা রাখতে বলছেন এবং আমাদের ঘোড়ার সাথে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলছেন পাহাড়ের চূঁড়ায়।


মজিদ চাচা বয়স্ক মানুষ কিন্তু মনে তিনি এখনো যুবক। ক্যামেরার লেন্সে হাত রাখা আর ছবি তুলার হাত দেখলেই বুঝা যায় এ বৃদ্ধ বয়সেই তিনি কতটা তরুন। অন্যান্য কাশ্মীরী মানুষদের মতো তিনিও বাংলাদেশী মানুষকে খুব ভালোবাসেন। তারা নিয়ে গেলেন আমাদের কাশ্মীর ভ্যালী, কন্যা ভ্যালী সর্বশেষ বাইসরন। প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে যত্ম নেয়ায় অপরূপ প্রাকৃতিক সাজে সজ্জিত অনিদ্য সুন্দর ভ্যালী আরো সুন্দর রূপ লাভ করেছে। অনেকটাই সুইজারল্যান্ডের আদলে তাই স্থানীয়দের ভাষ্য মতে বিদেশী পর্যটকরা এর নাম দিয়েছে মিনি সুইজারল্যান্ড। বাইসরন ভ্যালী বা মিনি সুইজারল্যান্ড এবং এর আশেপাশেই সুটিং হয়েছিলো সালমান খানের ব্যবসা সফল বাজরাঙ্গি ভাইজান মুভির। অসম্ভব সুন্দর সবুজের সমারোহতে ভরপুর এ বাইসরন ভ্যালীতে প্রবেশ করতেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। সবুজ ঘাসের কার্পেটিং মাঠে মন খুলে শ্বাস নিতে আত্মা জুড়িয়ে যায়, শুয়ে বসে সারাটা দিন কাটিয়ে দেয়া যায়।


ঘোড়ার সময় নির্দিষ্ট তাই ইচ্ছা থাকলেও বেশী সময় থাকা সম্ভব হলো না। ফিরে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসলো অল্প সময়েই। পাহাড়ে উঠার এবং নামার পথ আলাদা। পাহাড় থেকে নিচে পথটি আরো বেশী ভয়ংকর। পাথুরে পথ আর পাহাড়ী ঢল পাড়ি দিয়ে নামতে হচ্ছে। বেশ ঝুকিপূর্ণ এ পথ কিন্তু কিছুই করার নেই নিচে নামতে হবে। দীর্ঘক্ষন ঘোড়ায় চড়ার কারণে শুরুর ভীতি আর নেই ঘোড়ার লাগাম না ধরেই বসে থাকা যায়। স্মৃতির এ্যালবাম ভারী করতে এক হাতে ছবি তোলার কাজ করতে হচ্ছে। হর্স রাইডিং এর মাধ্যমে পাহাড়ে উঠানামা কাশ্মীর ভ্রমনের জন্য অনেক বড় পাওয়া।


কাশ্মীরে হঠাৎ গন্ডগোল লেগে যাওয়ার পরিবেশ টের পেলাম পহেলগাম ভ্যালীতে নামার পর। ভ্যালীর আশেপাশে পুরোটা ঘুরে দেখা হলোনা। ছোট একটি ঝুপড়ির দোকানে ডাবল ডিম আর রুটি দিয়ে কম খরচে লাঞ্চটা সেড়ে মধ্য প্রাচ্যকে হালকা শান্ত করেই ভিন্ন পথে শ্রীনগর ফেরার পথ ধরতে হলো। পহেলগাম যাওয়ার রাস্তা গন্ডগোলের কারণে বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে ফিরতে হচ্ছে। খারাপ হয়নি এ পথে ফিরে আসা, প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য্যে আমরা বিমোহিত।


বিকাল ৪ টা নাগাদ ফিরে এলাম শ্রীনগরে। এখনো ডাল লেক যাওয়া হয়নি তাই এবারের গন্তব্য এবার ডাল লেক। পুরো শ্রীনগর জুড়ে স্বচ্ছ পানির প্রায় ৩২ কি.মি দীর্ঘ এ লেক। মাছের চলাচলাসহ লেকের তলানিতে শেওলাও স্পষ্ট দেখা যায়। দরাদরি করে দুটি শিকারায় উঠে পড়লাম...


চলবে...


BD-Times/এম এইচ




রিলেটেড নিউজ:


গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:




 শীর্ষ খবর

কমলনগর সরকারি উপকুল ডিগ্রী কলেজের সবুজ বাংলাদেশের কমিটি গঠন -বিডি টাইমস

জবিতে ‘মুক্তমঞ্চ’ নির্মানের প্রস্তাবণা

‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’

আবরার হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জবির মানবিক বিভাগের ভর্তিপরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

তাইওয়ানের হাত থেকে কিরিবাতি কেড়ে নিলো চীন

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রেড ডেভিলরা, বাংলাদেশ ১৮৭

দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা

ভিসির পদত্যাগ দাবিতে বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন

লালপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, চালক নিহত

লালপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, চালক নিহত

খালেদ মাহমুদকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

শিল্পকর্মে বঙ্গবন্ধু

মোদির সেই রমরমা আর নেই

প্রশাসন ‘ম্যানেজ করে’ ক্যাসিনো চালাতেন খালেদ




বার্তা প্রধান: রেহমান কামাল
৩০১,ড.নবাব আলী টাওয়ার (৩য় তলা)
পুরানা পল্টন,ঢাকা-১০০০ ,বাংলাদেশ ।


ফোন :  02-7176978  মোবা:  01732-706938
Email :  editor.bdtimes@gmail.com


All Rights Reserved © bd-times.com

This site is developed by -khalid (emdad01557html5css3@gmail.com).

ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর, ঐতিহ্যের দিল্লী এবং দাদাবাবুদের কলকাতার পথে পথে (পর্ব:৫)