রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ১২:২৮ অপরাহ্ন


Bd-Times

ক্যাম্পাস এক্সক্লুসিভ

  Print  

সংকটে সাংস্কৃতিক অঙ্গণ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


জবি সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, সোমবার, ০৯ - সেপ্টেম্বর - ২০১৯



বিশ্ববিদ্যালয় মানে স্বাধীন শিক্ষা ও সাংস্কৃতি চর্চার আতুড়ঘর হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন।  কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হওয়ার ১৪ বছর পার করলেও নিজস্ব কোন সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে ওঠেনি প্রাচীন এই বিদ্যাপিঠে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাংস্কৃতিক অঙ্গণগুলো সমৃদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের প্রয়াস থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসগুলোতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ব্যবহার না করা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান সভা সেমিনার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও যথাযথ সহযোগিতা না করায় ঝিমিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গণ। অর্থ সংকট ও কর্মী সংকটেও নিস্তেজ হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অঙ্গনটি। সাংস্কৃতি চর্চার যথাযথ সুযোগ সুবিধা না পেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে নিজেদের সংস্কৃতিগুলো। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দিনের অধিক সময় অতিবাহিত করছে শিক্ষার্থীরা। যার ফলে শিক্ষার্থীরা হয়ে পড়ছে আত্মকেন্দ্রিক। ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতিক চর্চার পরিসর। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অনেকাংশে স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও, বাড়ছে না সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী সংখ্যা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি চর্চার মোট ১১টি সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ, চারণ শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমি (নাট্য), বাঙ্গালী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মাইম সোসাইটি, চতুষ্কোণ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যন্ড সোসাইটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদল।


২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬ সালে উদীচী জবি সংসদ যাত্রা শুরু করে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে শাহেদুল কবির মিনারকে সভাপতি ও নুর হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের দুই বছরে ক্যাম্পাসে কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি এই সংগঠনটিকে। বাৎসরিক ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পায় এই সংগঠনটি। অবকাশ ভবনের ৪র্থ তলায় একটি রুম বরাদ্দ থাকলেও এখানে হয় না কোন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। ‘মনের মানুষ’ নামে অন্য একটি ব্যন্ড দল রুমটি দখল করে এখন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মাইম সোসাইটি। তখন জহিরুল ইসলামকে সভাপতি ও সোহাগ বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করে। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পার করলেও কোন কার্যক্রম নেই এই সংগঠনটির। বার্ষিক ২০ হাজার টাকা বাজেট থাকলেও কখনো তা উত্তোলন করা হয়নি। সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, কর্মী সংকটে এখন বিলুপ্তির পথে এই সংগঠনটি।


২০০৬ সাল যাত্রা শুরু করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অবকাশ ভবনের ৩০৩ নং রুমটি যৌথভাবে ব্যবহার করে আসছে। বাৎসরিক মাত্র ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পায় এই দুটি সংগঠন। অবকাশ ভবনের অন্যতম সক্রিয় এই দুটি সংগঠনের কক্ষে নেই কোন ইন্টারনেট ব্যবস্থা, নেই কম্পিউটার, নেই ফিল্ম স্ক্রিনিংয়ের কোন ব্যবস্থা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেলেও সাংস্কৃতিক কর্মী দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্য সংগঠনগুলো কর্মী সঙ্কট, স্থায়ী অনুশীলন কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক অভাবে বাধাগ্রস্থ হবার কারণে অনেক সংগঠন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যদল সংগঠনটি।


এবিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হলেও আমাদের সংকট রয়েছে। আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা একসাথে কোন কার্যক্রম চালাতে পারে না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যেমন আগ্রহের অভাব আছে বিশ্ববিদ্যালয়েরও বিভিন্ন সংকট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখনকার শিক্ষাথীরা অনেকে ইন্টারনেটে বেশি সময় পার করছে আবার অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সংস্কৃতিক কর্মী প্রতিটা সংগঠনে তুলনামূলক কমে যাচ্ছে। এই সকল সংগঠন সক্রিয় করে তোলার জন্য একদিকে যেমন কর্মীদের সংস্কৃতি চর্চার পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মাহাদি সেকেন্দার বলেন, ‘নব্বই এর দশকে সংস্কৃতি কর্মী ও রাজনৈতিক কর্মীরা একসাথে আন্দোলন করতো। একসাথে রাজনীতিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতো। সেসময় সংস্কৃতিককর্মীও বেশি ছিল। আমাদের নানাবিদ সমস্যা এর সঠিক মূল্যায়নের অভাবে সংস্কৃতিক কর্মী তৈরী হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের যদি আবারও সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তুলতে হয় তাহলে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।




রিলেটেড নিউজ:


গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:




 শীর্ষ খবর

সবুজ বাংলাদেশ 'চন্দ্রগঞ্জ থানা শাখা'র পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোধন- বিডি টাইমস

লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলা একাদশ ক্লাবের ১০১ বিশিষ্ট নতুন কমিটি অনুমোদন।

শিশু রামিমের জন্য মানবিক আবেদন-বিডি টাইমস

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী ৩০হাজার বৃক্ষরোপণ করবে সবুজ বাংলাদেশ

আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছে ৫০ লাখ পরিবার

অনলাইন আদালতে জামিন পেলেন ১৪৪ আসামি

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ী ফিরলেন এক করোনা জয়ী পুলিশ সদস্য

দেশে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আরো ৯৬৯ জন শনাক্ত

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনা জয়ীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

অনলাইনে আদালত, প্রথম জামিন আবেদন সংগ্রাম সম্পাদকের আবুল আসাদ

করোনা উপসর্গ নিয়ে ওসমানী মেডিকেলের সাবেক পরিচালকের মৃত্যু

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১২ মামলার আসামি নিহত

নজরদারি বাড়িয়ে লকডাউন শিথিল করুন : ডব্লিউএইচও

১০ দিন হবে ঈদের ছুটি!

ফের শীর্ষ দূষিত বাতাসের শহর ঢাকা




বার্তা প্রধান: রেহমান কামাল
৩০১,ড.নবাব আলী টাওয়ার (৩য় তলা)
পুরানা পল্টন,ঢাকা-১০০০ ,বাংলাদেশ ।


ফোন :  02-7176978  মোবা:  01732-706938
Email :  editor.bdtimes@gmail.com


All Rights Reserved © bd-times.com

This site is developed by -khalid (emdad01557html5css3@gmail.com).

সংকটে সাংস্কৃতিক অঙ্গণ