শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন


Bd-Times

আন্তর্জাতিক

  Print  

মোদির সেই রমরমা আর নেই

   


টাইমস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, বৃহস্পতিবার, ১৯ - সেপ্টেম্বর - ২০১৯



ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যে ভালোবাসা ছিল তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।  সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য প্রিন্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তা তুলে ধরেছেন রঞ্জয় মজুমদার এবং জ্যানেট রড্রিগস।

বিগত ছয় বছরে ভারতের পুঁজিবাজারে ৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন এই বিনিয়োগকারীরা। তাদের আশা ছিল, মোদি ভারতীয় অর্থনীতি মুক্ত করে দেবেন। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এখন দ্রুত গতিতে তাদের ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলো থেকে সরে পড়তে শুরু করছেন।  চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তারা ৪.৫বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।  ভারতীয় পুঁজিবাজার ছেড়ে বিনিয়োগকারীদের এই ধরনের প্রস্থান অন্তত ১৯৯৯ সালের পর আর ঘটেনি।

লোম্বার্ড ওডিয়ার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের লন্ডনভিত্তিক প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সালমান আহমেদ জানান, ২০১৪ সালের আগে মোদির যে রমরমা অবস্থা ছিল এখন তা কমতে শুরু করেছে।  প্রসঙ্গত, লোম্বার্ড ওডিয়ার বিশ্বজুড়ে ৫২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ তদারকি করে থাকে।

মোদির প্রতি বিশ্বাস হারানোর জন্য বিনিয়োগকারীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। মোদি ক্ষমতাসীন হওয়ার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালের শুরু থেকেই ভারতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি সরাসরি পাঁচ প্রান্তিকের জন্য দুর্বলতম স্তরে হ্রাস পেয়েছিল।

এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেকারত্বের হার শতকরা ৫ ভাগ বলতে যা বোঝায় মূল চিত্রটি তার চেয়ে অনেক বেশি বেদনাদায়ক।

ভারতে গাড়ি বিক্রিতে রেকর্ড পতন ঘটছে, মূলধন বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, ৪৫ বছরের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের অনুপাত বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ।

এদিকে সোমবার তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ার ফলে ভারতীয় অর্থনীতি আরো বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ভারত বিশ্ব বাজার থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে।

অবশ্য অর্থনীতির এই দুর্বল অবস্থার মধ্যে মোদি অলসভাবে বসে নেই। যদিও বিনিয়োগকারীদের দাবি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর অংশীদারিত্ব বিক্রি এবং শ্রম আইনের পুনর্গঠনের মত প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী অনেক ধীর গতিতে কাজ করছেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল ভারত এমন এক কাঠামোগত মন্দার দিকে এগিয়ে যেতে পারে যা দেশটির ২ ট্রিলিয়ন ডলারের শেয়ার বাজারকে ডুবিয়ে দিতে পারে। আমাজন, নেটফ্লিক্সের মত আন্তর্জাতিক কোম্পানির মাধ্যমে এই শেয়ার বাজার এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।  এর ফলে মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির(বিজেপি) পক্ষে প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণকে চাকরি দেয়া ক্রমশই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বিজেপির আইনপ্রণেতা সুব্রাক্ষ্মণিয়াম স্বামী ব্লুমবার্গকুইন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই ঝুঁকির কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মোদি যদি অর্থনৈতিক এই অবস্থার সংশোধন না করেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই লোকজন তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজেপি এই ব্যাপারে মন্তব্য করার অনুরোধে কোন সাড়া দেয়নি।  সোমবার প্রযুক্তিমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ একটি অনুষ্ঠানে বলেন, বিনিয়োগের জন্য ভারত আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য, এখানে স্থানীয় মেধার পাশাপাশি আছে বিশাল বাজার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতিমুক্ত এবং সংস্কারমুখী সরকার।

যদিও বর্তমান ভারতের বেশিরভাগ সমস্যাই মোদি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি যেভাবে অর্থনীতিকে পরিচালনা করছেন তা হতাশাজনক। কালোটাকা এবং জাল নোট উদ্ধারের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে তিনি হঠাৎ করে দেশজুড়ে ৫০০ এবং ১০০০ রুপির নোট বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা অপ্রয়োজনীয়, অযথা অপচয় এবং প্রতারণাপূর্ণ একটি প্রকল্প ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এছাড়া ২০১৭ সালে দ্বিপক্ষীয় সহায়তায় পণ্য ও পরিষেবা করের সংস্কার করেন।তিনি। এর ফলে দেশজুড়ে অভিন্ন করের প্রবর্তন করা হয় যা বেশ জটিল। ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভূমি এবং শ্রম আইন সহজ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে তিনি সে পথে আর অগ্রসর হননি।

মঙ্গলবার ৬৯ তম জন্মদিন পালন করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রথমদিকে তিনি মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন যা অনেকেরই প্রশংসা লাভ করেছিল। এছাড়া নতুন ঋণ খেলাপি আইন প্রবর্তন করেন। এটিও প্রশংসাযোগ্য ছিল।  এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারণে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী মোদিনোমিক্স (মোদির অর্থনৈতিক এজেন্ডা) থেকে যে প্রত্যাশা করেছিলেন তা বাস্তবায়িত হতে ব্যর্থ হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী উদীয়মান বাজারে যে প্রভাব ফেলছে সেদিকে দৃষ্টি রেখে ভারত সরকার সম্প্রতি স্বল্পমেয়াদী প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর মোদি প্রশাসন রপ্তানিকারকদের জন্য অন্তত ৭ বিলিয়ন ডলার কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। গত মাসে গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের উপরও কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। এছাড়া খুচরা, উৎপাদন এবং কয়লা খনিসহ খাতগুলিতে বিদেশি বিনিয়োগের নিয়মও সহজ করে দেয়া হয়েছে।

তবে অঞ্চলভিত্তিক বিস্তৃত বাজেট ঘাটতি(ফেডারেল এবং প্রাদেশিক আর্থিক ব্যবস্থাসহ) এবং অতিরিক্ত ঋণগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর কারণে মোদির রাজস্ব নীতি সীমিত করতে হচ্ছে। তার নিজস্ব উপদেষ্টারা সতর্ক করে দিয়েছেন, বড় ধরনের কোন সংস্কার করা না হলে ভারত কাঠামোগত মন্দার মুখোমুখি হতে পারে। এছাড়া ভারতের আরো বেশি করে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বেশিরভাগ অর্থিনীতিবিদ।

এদিকে দেশটিতে জাতীয়তাবাদের ব্যাপক জোয়ার চলছে। কট্টর জাতীয়তাবাদী নীতির কারণে অর্থনীতির যাবতীয় সংস্কার কাজ আরো পিছিয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মে মাসে মোদির ভূমিধস বিজয় হিন্দু জাতীয়তাবাদকে উস্কে দিচ্ছে।

গত মাসে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা হ্রাসের ঘটনায় প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনিতেই গত ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরের পুলাওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার শুরু হয়েছিল।

এই ব্যাপারে আক্ষেপ করে কার্টিকা ম্যানেজমেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাটালিন জিনগোল্ড বলেন, ‘তারা তাদের রাজনীতির সবকিছুই কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে করছে যা হতাশাজনক।’ তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক সংস্কার কাজের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই দুষ্ট চক্রের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে।

(সংবাদ মাধ্যম দ্য প্রিন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি অনুবাদ করেছেন ফারহানা করিম।)




রিলেটেড নিউজ:


গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:




 শীর্ষ খবর

কমলনগর সরকারি উপকুল ডিগ্রী কলেজের সবুজ বাংলাদেশের কমিটি গঠন -বিডি টাইমস

জবিতে ‘মুক্তমঞ্চ’ নির্মানের প্রস্তাবণা

‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’

আবরার হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জবির মানবিক বিভাগের ভর্তিপরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

তাইওয়ানের হাত থেকে কিরিবাতি কেড়ে নিলো চীন

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রেড ডেভিলরা, বাংলাদেশ ১৮৭

দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা

ভিসির পদত্যাগ দাবিতে বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন

লালপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, চালক নিহত

লালপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ খাদে, চালক নিহত

খালেদ মাহমুদকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার

শিল্পকর্মে বঙ্গবন্ধু

মোদির সেই রমরমা আর নেই

প্রশাসন ‘ম্যানেজ করে’ ক্যাসিনো চালাতেন খালেদ




বার্তা প্রধান: রেহমান কামাল
৩০১,ড.নবাব আলী টাওয়ার (৩য় তলা)
পুরানা পল্টন,ঢাকা-১০০০ ,বাংলাদেশ ।


ফোন :  02-7176978  মোবা:  01732-706938
Email :  editor.bdtimes@gmail.com


All Rights Reserved © bd-times.com

This site is developed by -khalid (emdad01557html5css3@gmail.com).

মোদির সেই রমরমা আর নেই